যষ্টি মধু গাছ (মুলেঠি / লিকোরিস) – Glycyrrhiza glabra
বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Glycyrrhiza glabra | পরিবার (Family): Fabaceae | অন্যান্য নাম (Other Names): যষ্টি মধু, মুলেঠি, মধুয়েষ্টিকা, লিকোরিস, Licorice, Mulethi, Sweetwood | চারার উচ্চতা (Plant Height): ৩০-৬০ সেমি (১-২ ফুট) | পরিপক্ক গাছের উচ্চতা (Mature Height): ১-২ মিটার (টবে ছোট রাখা যায়) | উৎপত্তি (Origin): দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া
বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঔষধি গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। যষ্টি মধু তার মিষ্টি স্বাদ ও শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি নিরাময়ের জন্য আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় শতাব্দীকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
যষ্টি মধুর বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা | Features & Benefits of Licorice
যষ্টি মধু (Glycyrrhiza glabra) একটি ভেষজ উদ্ভিদ, যা তার মিষ্টি স্বাদযুক্ত মূলের জন্য বিখ্যাত। এই মিষ্টতা চিনির চেয়ে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি, কিন্তু স্বাস্থ্যকর। এর মূল থেকে তৈরি নির্যাস সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা ও পেটের সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
🌿 মিষ্টি স্বাদের ভেষজ উদ্ভিদ
যষ্টি মধুর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর অনন্য মিষ্টি স্বাদ। এটি একটি প্রাকৃতিক সুইটনার হিসেবে কাজ করে এবং বিভিন্ন ভেষজ চা ও ঔষধি মিশ্রণে ব্যবহৃত হয়।
🧬 পুষ্টিগুণ ও ঔষধি গুণে ভরপুর
যষ্টি মধুতে গ্লাইসিরাইজিন, ফ্ল্যাভোনয়েড ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি-অ্যালার্জিক উপাদান।
💊 সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও পেটের জন্য উপকারী
যষ্টি মধু সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথা উপশমে অত্যন্ত কার্যকরী। এটি হজমশক্তি উন্নত করে, অম্বল দূর করে এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় যষ্টি মধু চাষের সম্ভাবনা | Cultivation Potential in Bangladesh
বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া যষ্টি মধু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এটি সুনিষ্কাশিত মাটি ও পর্যাপ্ত রোদ পছন্দ করে। টবে ও মাটি উভয় জায়গাতেই সঠিক পরিচর্যায় এই গাছ ভালো হয়। বর্তমানে দেশের নার্সারি ও অনলাইন শপগুলোতে যষ্টি মধুর চারা সহজলভ্য এবং এর চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে।
কীভাবে যষ্টি মধু গাছ লাগাবেন ও যত্ন নেবেন | How to Plant and Care for Licorice Plant
১. উপযুক্ত সময় ও স্থান
চারা লাগানোর আদর্শ সময় বর্ষাকাল (মে-আগস্ট) ও বসন্তের শুরু। যষ্টি মধু গাছ পূর্ণ রোদে সবচেয়ে ভালো জন্মে, তাই দিনে কমপক্ষে ৬-৮ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোক প্রয়োজন।
২. মাটি ও রোপণ পদ্ধতি
মাটি (Soil): সুনিষ্কাশিত ও উর্বর বেলে-দোআঁশ মাটি যষ্টি মধুর জন্য উত্তম। মাটির pH ৬.০-৭.০ হলে সবচেয়ে ভালো।
গর্ত ও সার (Pit & Fertilizer): ১.৫x১.৫x১.৫ ফুট গর্ত করে তাতে ১০-১৫ কেজি পচা গোবর, ৫০০ গ্রাম ছাই, ১০০ গ্রাম টিএসপি ও ৫০ গ্রাম এমওপি মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
দূরত্ব (Spacing): জমিতে লাগালে ৬-৮ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। টবের জন্য ১৮-২০ ইঞ্চি ব্যাসের টব ব্যবহার করুন।
৩. পরিচর্যা, সেচ ও ছাঁটাই
পানি সেচ (Watering): শুষ্ক মৌসুমে সপ্তাহে ২-৩ বার সেচ দিন। বর্ষাকালে পানি জমতে দেবেন না।
ছাঁটাই (Pruning): শুকনো ও রোগাক্রান্ত ডালপালা ছাঁটাই করুন। গাছের আকার ঠিক রাখতে ছাঁটাই জরুরি।
সার প্রয়োগ (Fertilizer): বছরে ২ বার (ফেব্রুয়ারি ও সেপ্টেম্বর) জৈব সার ও সুষম NPK সার প্রয়োগ করুন।
৪. টবে যষ্টি মধু চাষ (ছাদ বাগান)
টবের আকার (Pot Size): ১৮-২০ ইঞ্চি ব্যাসের বড় টব বা ড্রাম ব্যবহার করুন। টবের নিচে ড্রেনেজের জন্য ছিদ্র থাকা জরুরি।
মাটির মিশ্রণ (Soil Mix): ২ অংশ দো-আঁশ মাটি, ১ অংশ কোকোপিট ও ১ অংশ জৈব কম্পোস্ট মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
৫. মূল সংগ্রহ ও ফলন
গাছ লাগানোর ২-৩ বছর পর মূল সংগ্রহ করা শুরু করা যায়। মূল শুকিয়ে ঔষধি কাজে ব্যবহার করা হয়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: যষ্টি মধু গাছ লাগানোর কত বছর পর মূল পাওয়া যায়?
প্রশ্ন: টবে যষ্টি মধু গাছ লাগানো যাবে কি?
প্রশ্ন: যষ্টি মধুর কী কী উপকারিতা রয়েছে?
প্রশ্ন: যষ্টি মধু গাছের আর কী কী নাম আছে?
প্রশ্ন: কেন অনলাইনে Plant in BD থেকে গাছ কিনবেন?
🔥 এখনই অর্ডার করুন এবং আপনার বাগানে আনার জন্য এনে দিন মিষ্টি স্বাদের ও ঔষধিগুণে ভরপুর যষ্টি মধু গাছ। স্টক সীমিত!















Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.