Kodom Tree Plant কদম গাছ

350.00৳ 

Details:

বর্ষার প্রথম বৃষ্টির সাথে যে ফুলটি বাংলার মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে, তা হলো কদম ফুল। কদম গাছ (Neolamarckia cadamba) একটি অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল, ছায়াঘন বৃক্ষ যা তার সুগন্ধি গোলাকার হলুদ-কমলা ফুলের জন্য বিখ্যাত। এই গাছটি শুধু বাগানের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এর রয়েছে অসংখ্য ঔষধি গুণ, যা আয়ুর্বেদে জ্বর, ডায়াবেটিস, ত্বকের রোগ ও প্রদাহ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। ছায়াদানকারী ও কাঠ উৎপাদনের জন্য কদম বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৃক্ষ। আপনার আঙ্গিনা বা বড় জায়গায় এই বর্ষার দূত রোপণ করুন।

Description

🌳 কদম গাছ – বর্ষার সুগন্ধি ফুলের ছায়াদানকারী বৃক্ষ (Kadam Tree)

কদম গাছ (Kadam Tree) – বাংলার প্রকৃতি ও সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্ষার প্রথম বৃষ্টির সাথে যে ফুলটি সবার আগে মনে পড়ে, তা হলো কদম ফুল। বৈজ্ঞানিক নাম Neolamarckia cadamba (পূর্বে Anthocephalus chinensis) এই গাছটি অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল, ছায়াঘন এবং অসংখ্য ঔষধি গুণে ভরপুর।

বৈজ্ঞানিক নাম: Neolamarckia cadamba (Roxb.) Bosser
প্রতিশব্দ: Anthocephalus chinensis
পরিবার: Rubiaceae (রুবিয়াসি) – কফি পরিবার
উৎপত্তি: বাংলাদেশ, ভারত, চীন, মালয়েশিয়া

🌳 কদম গাছের বিশেষত্ব

কদম গাছের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর সুগন্ধি গোলাকার হলুদ-কমলা ফুল। বর্ষাকালে (জুন-আগস্ট) গাছটি ফুলে ভরে যায় এবং চারপাশে মিষ্টি সুগন্ধ ছড়ায় । এটি অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল—প্রথম ৬-৮ বছরে দ্রুত বড় হয়। ছায়াঘন হওয়ায় এটি ছায়াদানকারী গাছ হিসেবে এবং কাঠ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। এর ছাল, পাতা ও ফলে রয়েছে অসংখ্য ঔষধি গুণ, যা আয়ুর্বেদে বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

🌱 কদম গাছের বৈশিষ্ট্য ও বিবরণ

কদম (Neolamarckia cadamba) একটি দ্রুত বর্ধনশীল, পর্ণমোচী বৃক্ষ। এর কাণ্ড সোজা, ধূসর থেকে প্রায় কালো এবং বহু ফাটলে রুক্ষ। শাখাগুলো ভূমির সমান্তরালে প্রসারিত হয়, যা গাছটিকে ছায়াঘন করে তোলে।

উদ্ভিদের গঠন ও বৃদ্ধি

  • উচ্চতা: ৪৫ মিটার (প্রায় ১৪৮ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হয়
  • কাণ্ড: সোজা, নলাকার, ধূসর থেকে কালো, রুক্ষ ও ফাটলযুক্ত
  • পাতা: বড়, ডিম্বাকৃতি, উজ্জ্বল-সবুজ, তেল-চকচকে, বিপ্রতীপ বিন্যাসে
  • ফুল: গোলাকার মঞ্জরি, সাদা-হলুদ থেকে কমলা রঙের, সুগন্ধি। একটি মঞ্জরিতে অজস্র ছোট ফুল থাকে
  • ফল: মাংসল, টক, বাদুড় ও কাঠবিড়ালীর প্রিয় খাদ্য
  • বৃদ্ধির হার: অত্যন্ত দ্রুত—প্রথম ৬-৮ বছরে দ্রুত বর্ধন
  • ফুল ফোটার সময়: ৪-৫ বছর বয়স থেকে ফুল ফোটে

✨ কদম গাছের উপকারিতা ও ব্যবহার

🌸 সৌন্দর্য ও ছায়া

  • সুগন্ধি গোলাকার ফুল বাগানের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়ায়
  • নিবিড় পত্রবিন্যাসের জন্য অত্যন্ত ছায়াঘন
  • বর্ষার দূত হিসেবে পরিচিত—ফুল ফোটার সাথে সাথে বর্ষার আগমন বার্তা ছড়ায়
  • রূপসী তরুর মধ্যে অন্যতম, কবি-সাহিত্যিকদের অনুপ্রেরণার উৎস

💊 ঔষধি গুণ

  • ছাল: জ্বর, প্রদাহ, ডায়াবেটিস, যকৃতের রোগ ও ম্যালেরিয়ায় ব্যবহৃত
  • পাতা: কৃমি দূর করে, ঘা ও ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক
  • ফল: ডায়রিয়া, পেটের গোলযোগ ও জ্বরে ব্যবহৃত
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: কদম পাতার রস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আশীর্বাদ
  • ব্যথানাশক: পাতা ও ছাল ব্যথা কমাতে সহায়ক

🪵 কাঠ উৎপাদন

  • কাঠ নরম, সাদা ও হালকা
  • বাক্স-পেটরা, কাগজ, প্লাইউড, ম্যাচ ও পেন্সিল তৈরিতে ব্যবহৃত
  • দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় কাঠ উৎপাদনের জন্য লাভজনক
  • জ্বালানিকাঠ হিসেবেও ব্যবহার্য

🌿 পরিবেশগত গুরুত্ব

  • কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশ শুদ্ধ রাখে
  • পাখি, পোকামাকড় ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল
  • মাটি ধরে রাখে ও ক্ষয় রোধ করে
  • চা বাগানের জন্য উপযুক্ত জমির নির্দেশক
⚠️ সতর্কতা: কদম গাছের ঔষধি ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

🌻 কদম গাছ রোপণ ও পরিচর্যা

রোপণ পদ্ধতি

  1. সময়: বর্ষাকাল, বিশেষ করে আষাঢ় মাস কদম গাছ রোপণের জন্য উপযুক্তস্থান: বড় জায়গা, রাস্তার পাশে বা আঙ্গিনায় রোপণ করুন
  2. গর্ত তৈরি: ২-৩ ফুট গভীর ও চওড়া গর্ত তৈরি করুন
  3. চারা রোপণ: সুস্থ চারা গর্তে রোপণ করে মাটি চেপে দিন
  4. দূরত্ব: গাছ থেকে গাছ ৫-৬ মিটার দূরত্ব রাখুন

🧪 মাটি ও পটিং মিক্স

  • উর্বর দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযুক্ত
  • নদীর তীরে ও জলাভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে
  • ভালো নিষ্কাশন সম্পন্ন মাটি প্রয়োজন
  • মাটির pH: ৬.০-৭.৫ (নিরপেক্ষ থেকে সামান্য ক্ষারীয়)
💧 গুরুত্বপূর্ণ: কদম গাছ নিয়মিত পানি পছন্দ করে। বর্ষাকালে এটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিত সেচ দিন।

☀️ আলোর প্রয়োজন

  • সেরা: পূর্ণ রোদ (দিনে ৬-৮ ঘণ্টা)
  • সহনীয়: আংশিক রোদ
  • তরুণ চারার ক্ষেত্রে প্রথমে হালকা ছায়া দেওয়া ভালো

💦 পানি দেওয়ার নিয়ম

  • নিয়মিত পানি দিন, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে
  • বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি জমতে দেবেন না
  • তরুণ গাছের জন্য নিয়মিত আর্দ্রতা প্রয়োজন

🧴 সার দেওয়ার নিয়ম

  • জৈব সার: রোপণের সময় গর্তে জৈব সার মিশিয়ে দিন বৃদ্ধির সময়: দ্রুত বৃদ্ধির জন্য নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার
  • সতর্কতা: অতিরিক্ত সার গাছের ক্ষতি করতে পারে

✂️ পরিচর্যা

  • নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করুনতরুণ অবস্থায় আগাছা ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করুন
  • ডালপালা ছাঁটাই করে গাছের আকৃতি ঠিক রাখুন
  • মরা ও রোগাক্রান্ত ডাল কেটে ফেলুন

🌱 বংশবিস্তার

  • বীজ: বীজ থেকে চারা উৎপাদন করা হয়। ৬০-৯০% অঙ্কুরোদগম হয়
  • সময়: ফেব্রুয়ারি মাসে বীজ বপন করা ভালো
  • চারা তৈরি: ৪-৫ মাসে চারা রোপণের উপযোগী হয়

🐛 পোকামাকড় ও রোগ প্রতিরোধ

  • তরুণ চারায় পোকামাকড়ের আক্রমণ হতে পারে
  • প্রয়োজনে জৈব কীটনাশক ব্যবহার করুন
  • ভালো বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন
  • অতিরিক্ত পানি এড়িয়ে চলুন

🇧🇩 বাংলাদেশে কদম গাছ চাষ

  • বাংলাদেশের আবহাওয়া কদম গাছের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত
  • ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ সারা দেশে সহজেই চাষ করা যায়
  • বর্ষাকালে দ্রুত বৃদ্ধি পায়
  • সামাজিক বনায়ন ও রাস্তার পাশে রোপণের জন্য আদর্শ
  • বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতিতে কদম গাছের বিশেষ স্থান 🛒 কেন Plant In BD থেকে কিনবেন?
  • সুস্থ চারা: রোগমুক্ত ও সবল চারা সরবরাহ
  • সারা দেশে ডেলিভারি: ১-৫ কার্যদিবসের মধ্যে হোম ডেলিভারি
  • ক্যাশ অন ডেলিভারি: পণ্য হাতে পেয়ে টাকা পরিশোধ
  • সেরা দাম: মাত্র ৳২৫০ থেকে শুরু
  • বিশেষজ্ঞ সহায়তা: গাছের যত্ন সম্পর্কে ফোন ও অনলাইন সাপোর্ট
  • ডেলিভারি সুরক্ষা: ডেলিভারির সময় ক্ষতি হলে বিনামূল্যে প্রতিস্থাপন

📦 অর্ডার করুন আজই!

আপনার আঙ্গিনা বা বড় জায়গায় বর্ষার সুগন্ধি ফুল ও ছায়ার অপূর্ব সমন্বয় আনতে কদম গাছ অর্ডার করুন এখনই। দ্রুত বৃদ্ধি, সুগন্ধি ফুল, ঔষধি গুণ এবং মূল্যবান কাঠ – সবকিছুই এক প্যাকেজে!

🛒 অর্ডার করুন – ৳২৫০ থেকে

📱 আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকুন

আরও তথ্য ও বাগান টিপসের জন্য আমাদের ব্লগ পড়ুন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলো করুন।

❓ কদম গাছ সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

কদম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম কি?
+
কদম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Neolamarckia cadamba (Roxb.) Bosser। পূর্বে এটি Anthocephalus chinensis নামে পরিচিত ছিল। এটি Rubiaceae (কফি) পরিবারের সদস্য ।
কদম গাছ কত লম্বা হয়?
+
কদম গাছ পরিপক্ব অবস্থায় ৪৫ মিটার (প্রায় ১৪৮ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এটি একটি বিশাল ছায়াঘন বৃক্ষ ।
কদম গাছের ফুল কখন ফোটে?
+
কদম ফুল সাধারণত বর্ষাকালে (জুন থেকে আগস্ট) ফোটে। এই সময়ে সুগন্ধি গোলাকার হলুদ-কমলা ফুলে গাছ ভরে যায় ।
কদম গাছ কত দিনে বড় হয়?
+
কদম অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল গাছ। প্রথম ৬-৮ বছরে এটি দ্রুত বড় হয় এবং প্রায় ২০ বছরে সর্বোচ্চ আকারে পৌঁছায়।
কদম গাছের কী কী ঔষধি গুণ আছে?
+
কদম গাছের ছাল জ্বর, প্রদাহ ও ডায়াবেটিসে ব্যবহৃত হয়। পাতার রস কৃমি দূর করে। আয়ুর্বেদে লিভারের রোগ, ত্বকের সমস্যা ও ব্যথা নিরাময়ে এর ব্যবহার রয়েছে]।
কদম গাছের কেমন মাটি প্রয়োজন?
+
কদম গাছ উর্বর দোআঁশ মাটিতে ভালো জন্মে। এটি নদীর তীরে ও জলাভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে ।
কদম গাছের দাম কত?
+
Plant In BD-তে কদম গাছের চারার দাম ৳২৫০ – ৳৫৫০ (চারার আকার ও বয়স অনুযায়ী)। সারা বাংলাদেশে হোম ডেলিভারি সুবিধা উপলব্ধ।
কদম গাছ কীভাবে বংশবিস্তার করবেন?
+
কদম গাছ বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে বংশবিস্তার করা হয়। বর্ষাকালে বীজ বপন করা ভালো।
কদম গাছ কি ছাদ বাগানের জন্য ভালো?
+
কদম একটি বিশাল বৃক্ষ হওয়ায় ছাদ বাগানের জন্য উপযুক্ত নয়। এটি বড় আঙ্গিনা, রাস্তার পাশে বা সামাজিক বনায়নের জন্য উপযুক্ত।
কদম ফুলের গন্ধ কেমন?
+
কদম ফুলের গন্ধ অত্যন্ত মিষ্টি, সুগন্ধি ও মনমাতানো। বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে এই সুগন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
কদম গাছ কি পোষা প্রাণীর জন্য নিরাপদ?
+
কদম গাছ সাধারণত নিরাপদ। তবে ঔষধি ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কদম গাছের কাঠের গুণাগুণ কি?
+
কদমের কাঠ নরম, সাদা ও হালকা। এটি বাক্স-পেটরা, কাগজ, প্লাইউড ও ম্যাচ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

Reviews

0 reviews
0
0
0
0
0

There are no reviews yet.

Be the first to review “Kodom Tree Plant কদম গাছ”

Your email address will not be published. Required fields are marked *