Jaboticaba Grape Tree জাবোটিকাবা আঙুর গাছ

770.00৳ 

Details:

‘ব্রাজিলিয়ান আঙুর’ খ্যাত জাবোটিকাবা ফলের উন্নত কলম করা চারা। গাছের কাণ্ডে আঙ্গুরের মতো থোকায় থোকায় ফলে, দেখতে ও স্বাদে অনন্য। টবে ও ছাদবাগানে ফলানোর জন্য উপযোগী। ফ্রি রিপ্লেসমেন্ট ও সারা দেশে হোম ডেলিভারি।

Description

জাবোটিকাবা গাছ | Jaboticaba Brazilian Grape Plant

বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Plinia cauliflora | পরিবার (Family): Myrtaceae | অন্যান্য নাম (Other Names): জাবুটিকাবা, ব্রাজিলিয়ান আঙুর, Brazilian Grape Tree, Jabuticaba | চারার উচ্চতা (Plant Height): ৬০-৮০ সেমি (২-২.৫ ফুট) | পরিপক্ক গাছের উচ্চতা (Mature Height): ১২-১৪ ফুট (টবে ছোট রাখা যায়) | উৎপত্তি (Origin): ব্রাজিল (মিনাস জেরাইস, সাও পাওলো অঞ্চল)

বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি বিরল ও অত্যন্ত পুষ্টিকর বিদেশি ফল। এটি কলম করা চারা, যা ৩-৪ বছরেই ফল দেয় ও একবার লাগালে দীর্ঘদিন ফলন পাওয়া যায়।

জাবোটিকাবা ফলের বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা | Features & Benefits of Jaboticaba

জাবোটিকাবা একটি দারুণ মিষ্টি ও টক-মিষ্টি স্বাদের ব্রাজিলিয়ান ফল যার সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বৈশিষ্ট্য হলো এর ফল সরাসরি গাছের কাণ্ড ও বড় ডালে (Cauliflory) থোকায় থোকায় ধরে। দেখতে ঠিক কালো আঙুরের মতো হলেও খোসা অনেকটা লটকনের মতোই মোটা ও খসখসে। ভিতরের অংশ আঙুরের সজিনার চেয়ে বেশি সাদাটে ও ক্রিমি। স্বাদ আঙ্গুরের চেয়ে অনেক বেশি মিষ্টি ও রসালো। খোসার রঙের কারণে কেউ কেউ একে ‘ব্ল্যাক জাম’ বলেও ডেকে থাকেন।

  • 🍇 কাণ্ডে ফল ধরা অনন্য বৈশিষ্ট্য (Unique Cauliflory): জাবোটিকাবার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর ফল গাছের কাণ্ড, গুঁড়ি ও বড় ডাল থেকে থোকায় থোকায় বের হয়।
  • 🧬 পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণে ভরপুর (Rich in Nutrients & Herbal Properties): জাবোটিকাবা ফল ভিটামিন ‘সি’, ‘ই’, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের চমৎকার উৎস। এর খোসায় অ্যান্থোসায়ানিন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টি-ডায়াবেটিক ও অ্যান্টি-ক্যান্সার বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ।
  • 🛡️ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ও ক্যান্সার প্রতিরোধী (Controls Diabetes & Cancer Prevention): ফলের খোসার প্রাকৃতিক উপাদান রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, জাবোটিকাবা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
  • 💪 হজমশক্তি উন্নত করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে (Aids Digestion & Relieves Constipation): ফলের আঁশ (ফাইবার) হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  • ✨ ত্বক ও চুলের যত্নে (Skin & Hair Care): এর রস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে, ব্রণ ও ফুসকুড়ি দূর করে, এবং চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
  • ❤️ হার্টের স্বাস্থ্য ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক (Heart Health & Weight Control): গবেষণায় দেখা গেছে, জাবোটিকাবা ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করে ও ওজন কমাতে সাহায্য করে। গ্লুকোজ টলারেন্স ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • 💰 বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক (Commercially Profitable): বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি কেজি জাবোটিকাবা ১৫০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বিএডিসি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা কৃষি উদ্যানে এই ফল চাষ করে সাফল্য পাওয়া গেছে। সেখানে চারটি গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে ৬০ কেজি ফল।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় জাবোটিকাবা চাষের সম্ভাবনা | Cultivation Potential in Bangladesh

বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া জাবোটিকাবা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বর্তমানে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা কৃষি উদ্যানে সফলভাবে এর চাষ হচ্ছে। বিএডিসি কর্মকর্তারা জানান, এ আবহাওয়ায় এই ফলটি খুব ভালোভাবে মানিয়ে গেছে। এই ফল যে সময়ে হয় তখন স্থানীয় অনেক ফলের সমাপ্তি ঘটে। ফলে বাজারে ফল সংকটকালীন সময়ে এটি প্রাপ্তি বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। চারা রোপণের ৩-৪ বছরের মধ্যেই ফল পাওয়া যায় এবং একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে বছরে ৫০-৬০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।

কীভাবে জাবোটিকাবা গাছ লাগাবেন ও যত্ন নেবেন | How to Plant and Care for Jaboticaba Tree

১. উপযুক্ত সময় ও স্থান | Climate and Location

চারা লাগানোর আদর্শ সময় বর্ষাকাল (জুন থেকে আগস্ট মাস) ও বসন্তের শুরু। জাবোটিকাবা গাছ পূর্ণ রোদ ও আংশিক ছায়া দু’জায়গাতেই হয়, তবে বেশি ফলনের জন্য দিনে কমপক্ষে ৬-৮ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোক নিশ্চিত করুন। ছায়ায় ফলন কিছুটা কম হতে পারে। ঠান্ডা বাতাস ও লবণাক্ত পরিবেশ এড়িয়ে চলুন। টবে লাগানোর জন্য ছাদ বা বারান্দায় যেখানে পর্যাপ্ত রোদ পড়ে এমন স্থান নির্বাচন করুন।

২. চারা সংগ্রহ ও রোপণ পদ্ধতি | Plant Collection and Planting Method

চারার ধরন: কলম বা গ্রাফটেড চারা ব্যবহার করা উত্তম। বীজের চারা ফল দিতে ৮-১৫ বছর সময় লাগতে পারে।

মাটি (Soil): উর্বর, দো-আঁশ ও বেলে-দো-আঁশ মাটি (pH ৫.৫-৬.৫) জাবোটিকাবা চাষের জন্য উত্তম। ক্ষারীয় মাটিতে চাষ করলে জৈব মালচ ও আয়রন স্প্রে প্রয়োজন।

গর্ত ও সার (Pit & Fertilizer): ২x২x২ ফুট গর্ত করে তাতে ৮-১০ কেজি পচা গোবর, ৫০ গ্রাম টিএসপি ও ৩০ গ্রাম এমওপি মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। গর্ত তৈরির ৭-১০ দিন পর চারা রোপণ করা উত্তম।

দূরত্ব (Spacing): জমিতে লাগালে প্রতিটি গাছের মাঝে ১২-১৫ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। টবের জন্য কমপক্ষে ১৮-২০ ইঞ্চি ব্যাসের টব ব্যবহার করুন।

৩. পরিচর্যা, সেচ ও ছাঁটাই | Care, Watering and Pruning

পানি সেচ (Watering): গাছের শিকড় মাটির উপরিভাগে হয়, তাই মাটি সবসময় আর্দ্র রাখতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে সপ্তাহে ২-৩ বার পানি দিন। টবের মাটির উপরের ১-২ ইঞ্চি শুকালে পানি দিতে হবে। অতিরিক্ত পানি না দিয়ে শিকড় পচা থেকে বাঁচাতে হবে।

ছাঁটাই (Pruning): শীতের শেষে বা বসন্তের শুরুতে গাছের রোগা, মরা ও ঘন ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে। এতে গাছের আকার ও আকৃতি ঠিক থাকে, আলো-বাতাস চলাচল ভালো হয় এবং ফলন বৃদ্ধি পায়।

সার প্রয়োগ (Fertilizer): বছরে ২-৩ বার জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করুন। ফুল আসার আগে ও ফল ধরার পর সুষম NPK সার (১০:১০:১০) ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয়। প্রতি ২-৩ মাসে জৈব সার ব্যবহার করা উত্তম।

মালচিং (Mulching): গাছের গোড়ায় পাইন বার্ক, শুকনো পাতা বা খড় বিছিয়ে মালচিং করুন। এটি মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে, আগাছা দমন করে এবং মাটির অম্লতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

রোগবালাই দমন (Pest Control): জাবোটিকাবা গাছ সাধারণত রোগ প্রতিরোধী। তবুও মাঝে মাঝে পাতার কুঁকড়ানো বা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে জৈব বালাইনাশক বা নিম তেল স্প্রে করুন।

৪. টবে জাবোটিকাবা চাষ (ছাদ বাগান) | Rooftop Gardening

টবের আকার (Pot Size): কমপক্ষে ১৮-২০ ইঞ্চি ব্যাসের টব বা হাফ ড্রাম ব্যবহার করুন। টবের নিচে ড্রেনেজের জন্য পর্যাপ্ত ছিদ্র থাকা জরুরি। গাছটি ধীরে বাড়ে বলে এটি থেকে দারুণ বনসাই তৈরি করে ছাদ সাজানো যায়।

মাটির মিশ্রণ (Soil Mix): ২ অংশ দো-আঁশ মাটি, ১ অংশ কোকোপিট ও ১ অংশ জৈব কম্পোস্ট মিশিয়ে ব্যবহার করুন। টবে নিয়মিত ছাঁটাই ও সেচের মাধ্যমে গাছের আকার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৫. ফল সংগ্রহ ও ফলন | Fruit Harvesting and Yield

কলম করা চারা লাগানোর ৩-৪ বছরের মধ্যেই ফল দেওয়া শুরু করে। ফল সাধারণত জানুয়ারিতে ফুল আসে ও মার্চ থেকে মাসে পাকে। ফল সম্পূর্ণ পাকলে গাঢ় কালচে-বেগুনি রং ধারণ করে এবং হাত দিয়ে সহজেই ছিঁড়ে যায়। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে ভালো পরিচর্যায় বছরে ৫০-৬০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে বাজারে জাবোটিকাবা ফলের দাম ১৫০০-২০০০ টাকা কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: জাবোটিকাবা কি জাম বা আঙুরের মতো?

উত্তর: জাবোটিকাবা দেখতে অনেকটা কালো আঙুরের মতো হলেও এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জাতের ফল। এর স্বাদ আঙুরের চেয়েও মিষ্টি ও রসালো। লটকনের মতো খোসা কিছুটা মোটা হয় এবং ভেতরে ১-৪টি বীজ থাকে। গাছে কাণ্ড ও বড় ডালে ফল ধরা এর সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্য।

প্রশ্ন: জাবোটিকাবা গাছ লাগানোর কত বছর পর ফল পাওয়া যায়?

উত্তর: উন্নত মানের কলম করা চারা লাগানোর ৩-৪ বছরের মধ্যেই ফল দেওয়া শুরু করে। বীজ থেকে চারা করলে ফল পেতে ৮-১৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

প্রশ্ন: টবে জাবোটিকাবা গাছ লাগানো যাবে কি?

উত্তর: অবশ্যই, ১৮-২০ ইঞ্চি বড় সাইজের টব ও সুনিষ্কাশিত মাটি ব্যবহার করলে ছাদ বা বারান্দার টবেও জাবোটিকাবা গাছ ফলানো সম্ভব। গাছটি ধীরে বাড়ে বলে এটিকে বনসাই আকারেও তৈরি করা যায়।

প্রশ্ন: জাবোটিকাবা ফলের বাজারে দাম কত?

উত্তর: আকার ও মানভেদে বাজারে জাবোটিকাবা ফলের দাম ১৫০০-২০০০ টাকা কেজির মধ্যে ওঠানামা করে। মৌসুম ও চাহিদার ওপর দাম নির্ধারিত হয়।

প্রশ্ন: কেন অনলাইনে Plant in BD থেকে গাছ কিনবেন?

উত্তর: আমরা উন্নত মানের, রোগমুক্ত ও কলম করা চারা সরবরাহ করি এবং সারা বাংলাদেশে নিরাপদ হোম ডেলিভারি নিশ্চিত করি। পথিমধ্যে গাছ নষ্ট হয়ে গেলে বিনামূল্যে রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া হয়। অর্ডার করতে এখনই ‘কার্টে যোগ করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।

🔥 এখনই অর্ডার করুন এবং আপনার ছাদবাগানে আনার জন্য এনে দিন বিরল ও পুষ্টিকর ব্রাজিলিয়ান ফল জাবোটিকাবা। 

Reviews

0 reviews
0
0
0
0
0

There are no reviews yet.

Be the first to review “Jaboticaba Grape Tree জাবোটিকাবা আঙুর গাছ”

Your email address will not be published. Required fields are marked *