Ice Cream Bean Plant আইসক্রিম বিন

1,240.00৳ 

Details:

বিশ্বের সবচেয়ে মজার ফলের গাছ ‘আইসক্রিম বিন’! এর ভেতরের সাদা অংশ ভ্যানিলা আইসক্রিমের মতো মিষ্টি ও নরম। টবে ও ছাদবাগানে ফলানোর জন্য অত্যন্ত উপযোগী। দ্রুত বর্ধনশীল, মাটি উন্নতকারী ও ভেষজ গুণে ভরপুর। ফ্রি রিপ্লেসমেন্ট ও সারা দেশে হোম ডেলিভারি।

Description

আইসক্রিম বিন ইঙ্গা বিন (Ice Cream Bean) গাছ | Inga Bean Plant

বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Inga edulis (Syn. Inga feuilleei) | পরিবার (Family): Fabaceae (Legume family) | অন্যান্য নাম (Other Names): Ice Cream Bean, Inga, Guama, Guaba, Pacay | চারার উচ্চতা (Plant Height): ৭৫-৯৫ সেমি (২.৫-৩ ফুট) | পরিপক্ক গাছের উচ্চতা (Mature Height): ২০-৩০ ফুট (টবে ছোট রাখা যায়) | ফল ধরার সময় (Fruiting Time): ৪-৬ বছর (কলম করা চারা) | উৎপত্তি (Origin): দক্ষিণ আমেরিকা (অ্যান্ডিয়ান উপত্যকা)

বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি দ্রুত বর্ধনশীল, মাটি উন্নতকারী ও পুষ্টিকর বিদেশি জাত। এটি কলম করা চারা, যা ৪-৬ বছরেই ফল দেয়। এই গাছ মাটিতে নাইট্রোজেন স্থির করে, ফলে গাছের চারপাশের মাটি উর্বর হয়।

আইসক্রিম বিন (Ice Cream Bean) ফলের বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা | Features & Benefits of Ice Cream Bean

আইসক্রিম বিন (Inga Bean) বিশ্বের সবচেয়ে অনন্য ও মজাদার ফলের একটি। এর লম্বা শুঁটির ভেতরে সাদা, তুলোর মতো নরম অংশ থাকে, যার স্বাদ একদম ভ্যানিলা আইসক্রিমের মতো! এই ফল দেখতে যেমন চমৎকার, খেতেও তেমনি সুস্বাদু। এটি শুধু ফলই নয়, বরং একটি মাটি উন্নতকারী গাছ যা আপনার বাগানের উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে।

  • 🍦 ভ্যানিলা আইসক্রিমের মতো স্বাদ (Vanilla Ice Cream Flavor): ফলের ভেতরের সাদা অংশ তুলোর মতো নরম, মিষ্টি ও ক্রিমি, যা খেতে হুবহু ভ্যানিলা আইসক্রিমের মতো লাগে। এটি শিশু ও বড় উভয়েরই প্রিয় একটি ফল।
  • 🌿 দ্রুত বর্ধনশীল ও মাটি উন্নতকারী (Fast-Growing & Soil-Enriching): ইঙ্গা গাছ অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল এবং এটির শিকড় মাটিতে নাইট্রোজেন স্থির করে, যা অন্যান্য গাছের জন্যও উপকারী। কফি, কোকোয়া ও মসলা গাছের ছায়া দেবার জন্যও এটি আদর্শ।
  • 🧬 পুষ্টিগুণে ভরপুর (Rich in Nutrients): আইসক্রিম বিনে ২৫% পর্যন্ত প্রাকৃতিক সুগার, ১০% প্রোটিন এবং ৫% ফাইবার থাকে। এটি ভিটামিন সি, এ, ই এবং ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্কের মতো খনিজ পদার্থের চমৎকার উৎস। কলার চেয়েও এতে প্রোটিনের পরিমাণ দ্বিগুণ।
  • 🛡️ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও হজমশক্তি উন্নত করে (Boosts Immunity & Digestion): ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। উচ্চ ফাইবার থাকায় হজমে সহায়তা করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  • 💪 প্রাকৃতিক শক্তির উৎস ও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে (Natural Energy Source & Eye Health): প্রাকৃতিক শর্করা থাকার কারণে এটি দ্রুত শক্তি জোগায়। ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ও ত্বকের যত্নে সহায়ক।
  • ✨ ত্বক ও চুলের যত্নে (Skin & Hair Care): অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘ই’ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় ও চুলের গোড়া মজবুত করে।
  • 💰 বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক (Commercially Profitable): একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে বছরে প্রায় ১০০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। বর্তমানে বিদেশি এই ফলের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, প্রতি কেজি ফল ৮০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। এটি বাণিজ্যিক চাষের জন্যও অত্যন্ত লাভজনক।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আইসক্রিম বিন চাষের সম্ভাবনা | Cultivation Potential of Ice Cream Bean in Bangladesh

বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া আইসক্রিম বিন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এটি দো-আঁশ ও বেলে-দো-আঁশ মাটিতে দারুণ জন্মে। সুনিষ্কাশিত উঁচু জমিতে লাগালে ভালো ফলন হয়। গাছটি একবার লাগালে ২০-২৫ বছর পর্যন্ত নিয়মিত ফলন পাওয়া যায়, যা এটিকে বাণিজ্যিক চাষের জন্য অত্যন্ত লাভজনক করে তুলেছে। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর বাজারগুলোতে বিদেশি ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, তাই এখানে চাষ করলে ভালো দাম পাওয়া যায়।

কীভাবে আইসক্রিম বিন গাছ লাগাবেন ও যত্ন নেবেন | How to Plant and Care for Ice Cream Bean Tree

১. উপযুক্ত সময় ও স্থান | Climate and Location

চারা লাগানোর আদর্শ সময় বর্ষাকাল (জুন থেকে আগস্ট মাস) ও বসন্তের শুরু। আইসক্রিম বিন গাছ পূর্ণ রোদ পছন্দ করে, তাই দিনে কমপক্ষে ৬-৮ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোক নিশ্চিত করুন। টবে লাগানোর জন্য ছাদ বা বারান্দায় যেখানে পর্যাপ্ত রোদ পড়ে এমন স্থান নির্বাচন করুন।

২. চারা সংগ্রহ ও রোপণ পদ্ধতি | Plant Collection and Planting Method

চারার ধরন: কলম বা গ্রাফটেড চারা ব্যবহার করা উত্তম।

মাটি (Soil): দো-আঁশ ও বেলে-দো-আঁশ মাটি (pH ৬.০-৭.৫) ইঙ্গার জন্য উত্তম। জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ মাটি ভালো ফলন দেয়।

গর্ত ও সার (Pit & Fertilizer): ২x২x২ ফুট গর্ত করে তাতে ৮-১০ কেজি পচা গোবর, ৫০ গ্রাম টিএসপি ও ৩০ গ্রাম এমওপি মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। গর্ত তৈরির ৭-১০ দিন পর চারা রোপণ করা উত্তম।

দূরত্ব (Spacing): জমিতে লাগালে প্রতিটি গাছের মাঝে ১২-১৫ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। টবের জন্য কমপক্ষে ২০ ইঞ্চি ব্যাসের টব ব্যবহার করুন।

৩. পরিচর্যা, সেচ ও ছাঁটাই | Care, Watering and Pruning

পানি সেচ (Watering): শুষ্ক মৌসুমে ১০-১৫ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। চারা লাগানোর পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ মাটি আর্দ্র রাখতে হবে। গাছের গোড়ায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না। টবে রাখলে মাটির উপরের স্তর শুকালে পানি দিতে হবে。

ছাঁটাই (Pruning): শীতের শেষে বা বসন্তের শুরুতে গাছের রোগা, মরা ও ঘন ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে। এতে গাছে বাতাস ও আলো চলাচল ভালো হয় এবং নতুন ডাল গজায়, যা ফলন বৃদ্ধি করে। ছাঁটাইকৃত ডালপালা গাছের গোড়ায় মালচিং করে ব্যবহার করা যায়।

সার প্রয়োগ (Fertilizer): বছরে ২-৩ বার জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করুন। ফুল আসার আগে ও ফল ধরার পর সুষম NPK সার (১০:১০:১০) ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয়। প্রতি ২-৩ মাসে জৈব সার ব্যবহার করা উত্তম।

মালচিং (Mulching): গাছের গোড়ায় পাতা বা খড় বিছিয়ে মালচিং করুন। এটি মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং আগাছা দমন করে।

রোগবালাই দমন (Pest Control): ইঙ্গা গাছ রোগ প্রতিরোধী ও মজবুত। তবুও মাঝে মাঝে এফিড বা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে জৈব বালাইনাশক বা নিম তেল স্প্রে করুন।

৪. টবে আইসক্রিম বিন চাষ (ছাদ বাগান) | Rooftop Gardening

টবের আকার (Pot Size): কমপক্ষে ২০ ইঞ্চি ব্যাসের টব বা হাফ ড্রাম ব্যবহার করুন। টবের নিচে ড্রেনেজের জন্য পর্যাপ্ত ছিদ্র থাকা জরুরি।

মাটির মিশ্রণ (Soil Mix): ২ অংশ দো-আঁশ মাটি, ১ অংশ কোকোপিট ও ১ অংশ জৈব কম্পোস্ট মিশিয়ে ব্যবহার করুন। টবে নিয়মিত ছাঁটাই করে গাছের আকার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৫. ফল সংগ্রহ ও ফলন | Fruit Harvesting and Yield

কলম করা চারা লাগানোর ৪-৬ বছরের মধ্যেই ফল দেওয়া শুরু করে। ফল সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে (মে-অক্টোবর) পাকে। লম্বা সবুজ শুঁটি পাকলে খোসা বাদামি আভা ধারণ করে এবং ভেতরের সাদা অংশ সহজেই বের করে খাওয়া যায়। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে ভালো পরিচর্যায় বছরে প্রায় ১০০টি পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে বাজারে আইসক্রিম বিনের দাম ৮০০-১২০০ টাকা কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

বিশেষ তথ্য: এই গাছের ফল শুঁটি খোলার পর কিছুদিন ফ্রিজে রেখে খাওয়া যায়। ফলের শুঁটি থেকে বীজ বের করে রোপন করলেও নতুন চারা পাওয়া যায়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: আইসক্রিম বিন গাছ কি বাংলাদেশের আবহাওয়ায় চাষ করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, আইসক্রিম বিন একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের গাছ, যা বাংলাদেশের আবহাওয়ায় দারুণ মানিয়ে যায়। সঠিক পরিচর্যায় এটি টবে ও ছাদবাগানে ভালো ফলন দেয়।

প্রশ্ন: আইসক্রিম বিন গাছ লাগানোর কত বছর পর ফল পাওয়া যায়?

উত্তর: উন্নত মানের কলম করা চারা লাগানোর ৪-৬ বছরের মধ্যেই ফল দেওয়া শুরু করে। গাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

প্রশ্ন: টবে আইসক্রিম বিন গাছ লাগানো যাবে কি?

উত্তর: অবশ্যই, ২০ ইঞ্চি বড় সাইজের টব ও সুনিষ্কাশিত মাটি ব্যবহার করলে ছাদ বা বারান্দার টবেও আইসক্রিম বিন গাছ ফলানো সম্ভব। নিয়মিত ছাঁটাই করে গাছের আকার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

প্রশ্ন: আইসক্রিম বিন ফলের স্বাদ কেমন?

উত্তর: আইসক্রিম বিনের ভেতরের সাদা অংশের স্বাদ ভ্যানিলা আইসক্রিমের মতো মিষ্টি ও ক্রিমি। এটি তুলোর মতো নরম ও অত্যন্ত সুস্বাদু, যা শিশু ও বড় উভয়েরই খুব প্রিয়।

প্রশ্ন: কেন অনলাইনে Plant in BD থেকে গাছ কিনবেন?

উত্তর: আমরা উন্নত মানের, রোগমুক্ত ও কলম করা চারা সরবরাহ করি এবং সারা বাংলাদেশে নিরাপদ হোম ডেলিভারি নিশ্চিত করি। পথিমধ্যে গাছ নষ্ট হয়ে গেলে বিনামূল্যে রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া হয়। অর্ডার করতে এখনই ‘কার্টে যোগ করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।

🔥 এখনই অর্ডার করুন এবং আপনার ছাদবাগানে আনার জন্য এনে দিন মজাদার ও পুষ্টিকর আইসক্রিম বিন। 

Reviews

0 reviews
0
0
0
0
0

There are no reviews yet.

Be the first to review “Ice Cream Bean Plant আইসক্রিম বিন”

Your email address will not be published. Required fields are marked *