Hybrid Ashok Tree হাইব্রিড অশোক গাছ

860.00৳ 

Details:

দৃষ্টিনন্দন কমলা-লাল থোকা ফুল, চিরসবুজ ছায়া ও উন্নত মানের কাঠের জন্য হাইব্রিড অশোক গাছের চারা। ঔষধিগুণেও ভরপুর এই গাছ টবে, রাস্তার পাশে ও বাগানে লাগানোর জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ফ্রি রিপ্লেসমেন্ট ও সারা দেশে হোম ডেলিভারি।

Description

হাইব্রিড অশোক গাছ  | Hybrid Ashok Tree Plant

বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Saraca asoca (syn. Saraca indica) | পরিবার (Family): Fabaceae | অন্যান্য নাম (Other Names): অশোক, অশোকষষ্ঠী, রাজ অশোক, স্বর্ণ অশোক, ইয়েলো অশোক, Ashoka, Sita Ashok | চারার উচ্চতা (Plant Height): ৬০-৯০ সেমি (২-৩ ফুট) | পরিপক্ক গাছের উচ্চতা (Mature Height): ২০-৩০ ফুট (টবে ছোট রাখা যায়) | ফুল ফোটার সময় (Flowering Time): ফেব্রুয়ারি-মে মাসে প্রচুর, সারা বছরই কমবেশি ফোটে | উৎপত্তি (Origin): ভারতীয় উপমহাদেশ (বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, মিয়ানমার)

বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি চিরসবুজ, দ্রুত বর্ধনশীল ও দৃষ্টিনন্দন ছায়াতরু। সারা বছর ঘন সবুজ পাতায় ভরা এই গাছ বসন্তকালে থোকায় থোকায় কমলা-লাল ফুলে ভরে যায়, যা বাগান ও রাস্তার পাশের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

হাইব্রিড অশোক ফুল ও কাঠের বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা | Features & Benefits of Hybrid Ashok Tree

হাইব্রিড অশোক গাছের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ঘন চিরসবুজ পাতা ও বসন্তকালে গাছে থোকায় থোকায় ফোটা উজ্জ্বল কমলা-লাল ফুল। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি একটি পবিত্র গাছ এবং বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে এর ফুল ও পাতা অলংকরণে ব্যবহৃত হয়। ভগবান বুদ্ধ এই গাছের নিচে জন্মেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। ‘অশোক’ নামের অর্থ ‘শোকহীন’ বা ‘দুঃখনাশক’, যা এর অপরূপ সৌন্দর্য ও প্রশান্তিদায়ক পরিবেশের প্রতীক।

  • 🌸 থোকায় থোকায় উজ্জ্বল ফুল ও দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য: বসন্তকালে গাছের কাণ্ড ও শাখায় থোকায় থোকায় কমলা ও লাল রঙের মিশেলে সুগন্ধি ফুল ফোটে, যা অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। এই ফুল রাতে তীব্র সুগন্ধ ছড়ায়।
  • 🌿 চিরসবুজ ছায়া ও পরিবেশ সৃষ্টি: গাঢ় সবুজ পাতা ও বিস্তৃত ডালপালার জন্য গাছটি ঘন ছায়া দেয়। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদে গাছের নিচে প্রাকৃতিক শীতল পরিবেশ তৈরি হয়। এটি শহরের অ্যাভিনিউ, পার্ক ও রাস্তার ধারে লাগানোর জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।
  • 💊 ঔষধি গুণে ভরপুর (Ayurvedic & Medicinal): আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিৎসায় অশোক গাছের বাকল, পাতা ও ফুল শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি মহিলাদের মাসিকের অনিয়ম ও জরায়ু সংক্রান্ত জটিলতায় বিশেষ উপকারী। এছাড়া বাকল আমাশয় ও পাইলসের চিকিৎসায় কাজে লাগে।
  • 🌱 উন্নত মানের কাঠ ও দ্রুত বর্ধনশীল: হাইব্রিড জাতটি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এর কাঠ মজবুত ও উন্নতমানের হয়। এটি আসবাবপত্র, কৃষি সরঞ্জাম ও নির্মাণ কাজে ব্যবহার উপযোগী।
  • ☀️ কম পরিচর্যা ও টবে লাগানোর উপযোগী: অশোক গাছ পূর্ণ রোদ ও আংশিক ছায়া উভয় স্থানেই ভালো হয় এবং কম পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে। প্রাথমিক অবস্থায় ছোট টবেও এটি লাগানো যায়, যা ছাদবাগানের জন্য দারুণ উপযোগী।
  • 🏡 প্রাকৃতিক সীমানা ও গোপনীয়তা তৈরি করে: দ্রুত লতানো না হলেও সারি সারি লাগিয়ে একে প্রাকৃতিক বেড়া ও গোপনীয়তার আবরণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
  • 🛡️ পবিত্র ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব: বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি একটি পবিত্র বৃক্ষ। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এর ফুল ও পাতা ব্যবহার করা হয় এবং বিশ্বাস করা হয় যে বাড়ির আশপাশে এই গাছ লাগালে সুখ ও শান্তি বয়ে আসে।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় হাইব্রিড অশোক চাষের সম্ভাবনা | Cultivation Potential in Bangladesh

বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া হাইব্রিড অশোক চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের পাহাড়ি ও সমতল এলাকায় এটি দারুণ মানিয়ে যায়। এটি রাস্তার ধারে, পার্ক, স্কুল, কলেজ ও বসতবাড়ির বাগানে বহুলরূপে লাগানো হয়। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারিভাবে গাছটির ব্যাপক চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কীভাবে হাইব্রিড অশোক গাছ লাগাবেন ও যত্ন নেবেন | How to Plant and Care for Hybrid Ashok Tree

১. উপযুক্ত সময় ও স্থান | Climate and Location

চারা লাগানোর আদর্শ সময় বর্ষাকালের শুরু (মে-জুন মাস) এবং বসন্তকাল (ফেব্রুয়ারি-মার্চ)। অশোক গাছ পূর্ণ রোদ ও আংশিক ছায়া উভয় জায়গাতেই হয়, তবে প্রচুর ফুল ও দ্রুত বৃদ্ধির জন্য দিনে কমপক্ষে ৪-৬ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোক নিশ্চিত করুন।

২. চারা সংগ্রহ ও রোপণ পদ্ধতি | Plant Collection and Planting Method

মাটি ও টব (Soil & Pot): বেলে-দো-আঁশ ও সুনিষ্কাশিত উর্বর মাটি অশোকের জন্য উত্তম। pH মাত্রা ৬.০-৭.৫ হলে সবচেয়ে ভালো। টবে লাগাতে চাইলে ১০-১২ ইঞ্চি (২৫-৩০ সেমি) উচ্চতার টব দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। পরবর্তীতে বড় টবে স্থানান্তর করতে হবে। জমিতে লাগানোর জন্য গর্তের আকার কমপক্ষে ২x২ ফুট রাখুন।

মাটির মিশ্রণ (Soil Mix): ২ অংশ দো-আঁশ মাটি, ১ অংশ কোকোপিট, ১ অংশ জৈব কম্পোস্ট ও অল্প বালি ভালোভাবে মিশিয়ে ব্যবহার করুন। গর্ত তৈরির সময় নিচে ১-২ কেজি পচা গোবর মাটিতে মিশিয়ে দিলে ভালো ফলন হয়।

রোপণ পদ্ধতি (Planting Method): টব বা গর্তে চারা রোপণের সময় শিকড় যাতে ভালোভাবে মাটিতে বসে সেদিকে খেয়াল রাখুন। চারার গোড়ায় হালকা চাপ দিয়ে মাটি বসিয়ে পরিমাণমতো পানি দিন।

৩. পরিচর্যা, সেচ ও ছাঁটাই | Care, Watering and Pruning

পানি সেচ (Watering): চারা অবস্থায় মাটি আর্দ্র রাখতে নিয়মিত (সপ্তাহে ২-৩ বার) পানি দিন। বড় গাছ শুষ্ক মৌসুমে সপ্তাহে ১-২ বার ও শীতকালে কম পানি দিলেই হয়। তবে গোড়ায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না। টবে রাখলে মাটির উপরের স্তর শুকালে পানি দিতে হবে।

ছাঁটাই (Pruning): শীতের শেষে বা বসন্তের আগে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে) গাছের রোগা, মরা ও ভেতরের দিকে ঘন ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে। এতে গাছে বাতাস ও আলো চলাচল ভালো হয় এবং নতুন ডাল গজায়, যা ফুল ও পাতার পরিমাণ বাড়ায়। গাছের আকৃতিও ঠিক রাখতে পাশে বেরিয়ে যাওয়া অতিরিক্ত ডাল ছাঁটাই করতে পারেন।

সার প্রয়োগ (Fertilizer): বছরে ২-৩ বার জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করুন। ফুল আসার আগে ফসফরাস ও পটাশ সমৃদ্ধ সুষম NPK সার (১০:১০:১০) ব্যবহার করলে ফুলের পরিমাণ বাড়ে। নতুন চারা লাগানোর সময় মাটিতে অবশ্যই জৈব সার মিশিয়ে দিতে হবে।

মালচিং (Mulching): গাছের গোড়ায় পাতা বা খড় বিছিয়ে মালচিং করুন। এটি মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং আগাছা দমন করে।

রোগবালাই দমন (Pest Control): অশোক গাছ সাধারণত রোগ প্রতিরোধী। তবুও মাঝে মাঝে এফিড বা মিলিবাগের আক্রমণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে জৈব বালাইনাশক বা নিম তেল স্প্রে করুন। নিয়মিত গাছ পরিদর্শন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

৪. টবে হাইব্রিড অশোক চাষ (ছাদ বাগান) | Rooftop Gardening

টবের আকার (Pot Size): অশোক গাছ ধীরে ধীরে বড় হয়, তাই কমপক্ষে ১২-১৪ ইঞ্চি টবে রোপণ করুন। টবের নিচে ড্রেনেজের জন্য পর্যাপ্ত ছিদ্র থাকা জরুরি। ছাদে বাতাসের চাপ কিছুটা বেশি থাকে বলে ভারী টব ব্যবহার করলে গাছ সুস্থ থাকে।

সঠিক স্থান নির্বাচন: ছাদে এমন জায়গা নির্বাচন করুন যেখানে দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের আলো পাওয়া যায়। প্রাথমিক অবস্থায় গাছ লাগানোর ২-৩ মাস পর এটিকে বড় টবে স্থানান্তর করতে হবে।

৫. ফল সংগ্রহ ও ফলন | Flower Harvesting and Yield

গাছ লাগানোর ২-৩ বছরের মধ্যেই ফুল আসা শুরু করে। ফুল সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসে ফোটে, তবে সময়কাল আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। ফুল থোকায় থোকায় ফোটে এবং ফুল ফোটার পর কুড়ি অবস্থায় সংগ্রহ করে মালা, পূজা ও শোভায় ব্যবহার করা যায়। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে ভালো পরিচর্যায় প্রচুর পরিমাণে ফুল সংগ্রহ করা সম্ভব।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: অশোক গাছ ফোটাতে কত বছর লাগে?

উত্তর: উন্নত মানের চারা লাগানোর ২-৩ বছরের মধ্যেই ফুল দেওয়া শুরু করে। সঠিক পরিচর্যায় প্রথম ফুল ফুটতে গাছের আকার ৬-৭ ফুট হলেও সময় লাগতে পারে।

প্রশ্ন: হাইব্রিড অশোক কি টবে লাগানো যাবে?

উত্তর: অবশ্যই, ১২-১৪ ইঞ্চি সাইজের টব ও সুনিষ্কাশিত মাটি ব্যবহার করলে ছাদ বা বারান্দার টবেও হাইব্রিড অশোক গাছ খুব সুন্দর হয়। তবে নিয়মিত ছাঁটাই করে গাছের আকার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

প্রশ্ন: অশোক গাছের কাঠ কী কাজে লাগে?

উত্তর: অশোক কাঠ মজবুত ও উন্নতমানের হওয়ায় এটি আসবাবপত্র, কৃষি সরঞ্জাম ও হালকা নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে সৌন্দর্য ও ছায়াদানের জন্যই এটি বেশি পরিচিত।

প্রশ্ন: অশোক গাছের যত্নে কী কী সতর্কতা জরুরি?

উত্তর: গাছের গোড়ায় কখনও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। নিয়মিত ছাঁটাই ও সুষম সার প্রয়োগ করলে গাছ সুস্থ থাকে। প্রয়োজনে নিম তেল স্প্রে করে পোকামাকড় দমন করা যেতে পারে।

প্রশ্ন: কেন অনলাইনে Plant in BD থেকে গাছ কিনবেন?

উত্তর: আমরা উন্নত মানের, রোগমুক্ত ও সবল চারা সরবরাহ করি এবং সারা বাংলাদেশে নিরাপদ হোম ডেলিভারি নিশ্চিত করি। পথিমধ্যে গাছ নষ্ট হয়ে গেলে বিনামূল্যে রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া হয়। অর্ডার করতে এখনই ‘কার্টে যোগ করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।

🔥 এখনই অর্ডার করুন এবং আপনার ছাদবাগানে আনার জন্য এনে দিন চিরসবুজ সৌন্দর্য ও ছায়ায় ভরপুর হাইব্রিড অশোক গাছ।

Reviews

0 reviews
0
0
0
0
0

There are no reviews yet.

Be the first to review “Hybrid Ashok Tree হাইব্রিড অশোক গাছ”

Your email address will not be published. Required fields are marked *