Gulap Jaam Plant গোলাপজাম ফল গাছ

480.00৳ 

Details:

গোলাপের মতো হালকা সুবাস আর মিষ্টি স্বাদের গোলাপজাম গাছের কলম করা চারা। বাগানের সৌন্দর্য বাড়াতে, পুষ্টিকর ফল পেতে এবং ছায়া দেবার জন্য দারুণ উপযোগী। ফ্রি রিপ্লেসমেন্ট ও সারা দেশে হোম ডেলিভারি।

Description

গোলাপজাম গাছ | Gulap Jaam Plant

বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Syzygium jambos | পরিবার (Family): Myrtaceae | অন্যান্য নাম (Other Names): গোলাপজাম, Rose Apple, Malabar Plum | চারার উচ্চতা (Plant Height): ৭০-৯০ সেমি (২.৫-৩ ফুট) | পরিপক্ক গাছের উচ্চতা (Mature Height): ৮-১২ ফুট (টবে ছোট রাখা যায়) | উৎপত্তি (Origin): দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (মালয়েশিয়া ও ভারত)

বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি সুগন্ধি, মিষ্টি ও দৃষ্টিনন্দন দেশি ফল। এটি কলম করা চারা, যা ১-২ বছরেই ফল দেয় ও একবার লাগালে ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।

গোলাপজাম ফলের বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা | Features & Benefits of Gulap Jaam (Rose Apple)

গোলাপজাম একটি অপেক্ষাকৃত অপ্রচলিত কিন্তু অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু দেশি ফল। ফলে গোলাপ ফুলের হালকা ও মিষ্টি সুবাস থাকে বলেই এর নাম গোলাপজাম। হালকা সবুজ, সাদাটে বা গোলাপি আভাযুক্ত এই ফলটি গ্রীষ্মকালে পাওয়া যায় এবং এটি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।[reference:0][reference:1] এই গাছটি ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত বাঁচে এবং লাগানোর ২-৩ বছর পর থেকে ফল দেওয়া শুরু করে।[reference:2] বর্তমানে এটি আবার নার্সারিতে পাওয়া যাচ্ছে, যা বাড়ির আঙিনায় সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য দুটোই এনে দিতে পারে।[reference:3]

  • 🍏 অনন্য স্বাদ ও গঠন: গোলাকার বা কিছুটা নাশপাতি আকৃতির এই ফল পাকলে হলুদ বা ফিকে গোলাপি রং ধারণ করে। ভেতরে একটি বা দুটি বীজ থাকে এবং শাঁস রসালো ও মিষ্টি হয়।[reference:4]
  • 🧬 ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর: এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ফাইবার ও ক্যারোটিন রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে।[reference:5]
  • 🛡️ ডায়াবেটিস ও হজমে সহায়ক: গোলাপজামে চিনির পরিমাণ কম থাকায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ। এছাড়া ফাইবার থাকায় এটি হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।[reference:6][reference:7]
  • 💪 পেটের পীড়া ও ডায়রিয়ায় উপকারী: গাছের ছাল ও পাতা সিদ্ধ করে ক্বাথ সেবন করলে পেটের পীড়া ও ডায়রিয়ায় উপকার পাওয়া যায়।[reference:8][reference:9]
  • ✨ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যাস্ট্রিনজেন্ট গুণ: গোলাপজামের পাতা ও বীজ অ্যাস্ট্রিনজেন্ট (সংকোচকারী) ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণসম্পন্ন, যা আমাশয় ও ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।[reference:10]
  • 🌿 গাছের অন্যান্য ব্যবহার: পাতা ফুড়ুলি বা চোখের প্রদাহ কমাতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া গাছের ছাল ও পাতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।[reference:11][reference:12]

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় গোলাপজাম চাষের সম্ভাবনা | Cultivation Potential of Gulap Jaam in Bangladesh

বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া গোলাপজাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। একসময় গ্রামবাংলার বাড়ির আঙিনা ও পাহাড়ি এলাকায় এই গাছ দেখা যেত, কিন্তু এখন এটি হারিয়ে যেতে বসেছিল।[reference:13] বর্তমানে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, মাধবপুর ও বাহুবল উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় গোলাপজামের চাষ হয় এবং নার্সারিগুলোতে এর চারা আবার পাওয়া শুরু হয়েছে।[reference:14] পাবনা, যশোর ও পার্বত্য অঞ্চলেও এর চাষ ভালো হয়। একটি গাছ ৫০-৬০ বছর বাঁচে, যা এটিকে দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত লাভজনক করে তুলেছে।[reference:15]

কীভাবে গোলাপজাম গাছ লাগাবেন ও যত্ন নেবেন | How to Plant and Care for Gulap Jaam Tree

১. উপযুক্ত সময় ও স্থান | Climate and Location

চারা লাগানোর আদর্শ সময় বর্ষাকাল (জুন থেকে আগস্ট মাস) ও বসন্তের শুরু। গোলাপজাম গাছ পূর্ণ রোদ পছন্দ করে, তাই দিনে কমপক্ষে ৬-৮ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোক নিশ্চিত করুন। উঁচু ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত জমি নির্বাচন করুন। টবে লাগানোর জন্য ছাদ বা বারান্দায় যেখানে পর্যাপ্ত রোদ পড়ে এমন স্থান নির্বাচন করুন।

২. চারা সংগ্রহ ও রোপণ পদ্ধতি | Plant Collection and Planting Method

চারার ধরন: কলম বা গ্রাফটেড চারা ব্যবহার করা উত্তম, কারণ এসব চারা দ্রুত ফল দিয়ে থাকে।

মাটি (Soil): দো-আঁশ ও বেলে-দো-আঁশ মাটি (পিএইচ ৫.৫-৭.৫) গোলাপজামের জন্য উত্তম। পানি জমে না এমন মাটি বেছে নিতে হবে।[reference:16]

গর্ত ও সার (Pit & Fertilizer): ২x২x২ ফুট গর্ত করে তাতে ৮-১০ কেজি পচা গোবর, ১ কেজি ছাই, ৫০ গ্রাম টিএসপি ও ৩০ গ্রাম এমওপি মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। গর্ত তৈরির ৭-১০ দিন পর চারা রোপণ করা উত্তম।[reference:17]

দূরত্ব (Spacing): জমিতে লাগালে প্রতিটি গাছের মাঝে ৮-১০ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। টবের জন্য কমপক্ষে ১৮ ইঞ্চি ব্যাসের টব ব্যবহার করুন।

৩. পরিচর্যা, সেচ ও ছাঁটাই | Care, Watering and Pruning

পানি সেচ (Watering): প্রথম ১-২ বছর নিয়মিত পানি দিতে হবে, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে। গাছ বড় হলে প্রাকৃতিক বৃষ্টিই যথেষ্ট হয়, তবে খরায় মাঝে মাঝে সেচ দিতে হয়।[reference:18] টবে রাখলে মাটির উপরের স্তর শুকালে পানি দিতে হবে।

ছাঁটাই (Pruning): প্রতিবছর ফল তোলার পর শুকনো ও রোগাক্রান্ত ডাল কেটে ফেলতে হবে। এতে গাছে বাতাস ও আলো চলাচল ভালো হয় এবং নতুন ডাল গজায়, যা ফলন বৃদ্ধি করে।[reference:19]

সার প্রয়োগ (Fertilizer): বছরে ২ বার জৈব সার (পচা গোবর/কম্পোস্ট) প্রয়োগ করুন। এছাড়া বর্ষা ও বসন্তকালে কিছু রাসায়নিক সার (NPK ১০:১০:১০) প্রয়োগ করলে ভালো ফলন হয়।[reference:20]

আগাছা নিয়ন্ত্রণ ও মালচিং (Weed Control & Mulching): গাছের চারপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। গাছের গোড়ায় পাতা বা খড় বিছিয়ে মালচিং করুন, যা মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং আগাছা দমন করে।[reference:21]

রোগবালাই দমন (Pest Control): গোলাপজাম গাছে খুব বেশি রোগ হয় না। পাতায় ফাঙ্গাস বা পোকা হলে নিম তেল বা জৈব কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন।[reference:22]

৪. টবে গোলাপজাম চাষ (ছাদ বাগান) | Rooftop Gardening

টবের আকার (Pot Size): কমপক্ষে ১৮ ইঞ্চি ব্যাসের টব বা হাফ ড্রাম ব্যবহার করুন। টবের নিচে ড্রেনেজের জন্য পর্যাপ্ত ছিদ্র থাকা জরুরি।

মাটির মিশ্রণ (Soil Mix): ২ অংশ দো-আঁশ মাটি, ১ অংশ কোকোপিট ও ১ অংশ জৈব কম্পোস্ট মিশিয়ে ব্যবহার করুন। টবে নিয়মিত ছাঁটাই করে গাছের আকার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৫. ফল সংগ্রহ ও ফলন | Fruit Harvesting and Yield

কলম করা চারা লাগানোর ১-২ বছরের মধ্যেই ফল দেওয়া শুরু করে।[reference:23] গোলাপজাম গাছে মাঘ-ফাল্গুন মাসে ফুল আসে এবং বৈশাখ থেকে শ্রাবণ মাসের মধ্যে ফল পাকে।[reference:24] ফুল ফোটার ২ মাস পর ফল সংগ্রহযোগ্য হয়। পাকা ফল গাছ থেকে পড়ে যাওয়ার আগেই তুলে ফেলতে হবে।[reference:25] একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে ভালো পরিচর্যায় প্রচুর ফলন পাওয়া সম্ভব।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: গোলাপজাম ফলের স্বাদ কেমন?

উত্তর: গোলাপজাম ফল মিষ্টি, রসালো এবং এতে গোলাপ ফুলের হালকা ও মিষ্টি সুবাস থাকে। খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু।

প্রশ্ন: গোলাপজাম গাছ লাগানোর কত বছর পর ফল পাওয়া যায়?

উত্তর: উন্নত মানের কলম করা চারা লাগানোর ১-২ বছরের মধ্যেই ফল দেওয়া শুরু করে। বীজের চারা লাগালে ফল পেতে ২-৩ বছর সময় লাগতে পারে।

প্রশ্ন: টবে গোলাপজাম গাছ লাগানো যাবে কি?

উত্তর: অবশ্যই, ১৮ ইঞ্চি বড় সাইজের টব ও সুনিষ্কাশিত মাটি ব্যবহার করলে ছাদ বা বারান্দার টবেও গোলাপজাম গাছ ফলানো সম্ভব। বর্তমানে দেশে টবে ফল চাষ খুবই জনপ্রিয়।

প্রশ্ন: গোলাপজাম ফল কি ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারবেন?

উত্তর: হ্যাঁ, গোলাপজামে চিনির পরিমাণ কম থাকায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ। এছাড়া গাছের ছাল ও পাতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

প্রশ্ন: কেন অনলাইনে Plant in BD থেকে গাছ কিনবেন?

উত্তর: আমরা উন্নত মানের, রোগমুক্ত ও কলম করা চারা সরবরাহ করি এবং সারা বাংলাদেশে নিরাপদ হোম ডেলিভারি নিশ্চিত করি। পথিমধ্যে গাছ নষ্ট হয়ে গেলে বিনামূল্যে রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া হয়। অর্ডার করতে এখনই ‘কার্টে যোগ করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।

🔥 এখনই অর্ডার করুন এবং আপনার ছাদবাগানে আনার জন্য এনে দিন সুগন্ধি ও পুষ্টিকর গোলাপজাম। স্টক সীমিত!

Reviews

0 reviews
0
0
0
0
0

There are no reviews yet.

Be the first to review “Gulap Jaam Plant গোলাপজাম ফল গাছ”

Your email address will not be published. Required fields are marked *