Bread Fruit Tree Plant রুটি ফল গাছ

970.00৳ 

Details:

কাঁঠালের ছোট ভাই ‘রুটি ফল’! আটার মতো নরম এই ফলটি ভাজি, পায়েস, এমনকি রুটি বানিয়েও খাওয়া যায়। পুষ্টিগুণে ভরপুর ও চাষে অত্যন্ত সহজ এই গাছ টবে ও ছাদবাগানের জন্য উপযোগী। সারা দেশে হোম ডেলিভারি ও ফ্রি রিপ্লেসমেন্ট।

Description

রুটি ফল গাছ | Bread Fruit Tree Plant

বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Artocarpus altilis | পরিবার (Family): Moraceae (কাঁঠাল ও ডুমুর পরিবার) | অন্যান্য নাম (Other Names): ব্রেডফ্রুট, আটা ফল, রুটিফল; ইংরেজি: Breadfruit | চারার উচ্চতা (Plant Height): ৭০-৯০ সেমি (২.৫-৩ ফুট) | পরিপক্ক গাছের উচ্চতা (Mature Height): ৮-১৪ ফুট (টবে ছোট রাখা যায়) | উৎপত্তি (Origin): দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ

বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি দ্রুত বর্ধনশীল, পুষ্টিকর ও চাহিদাসম্পন্ন বিদেশি ফল।

রুটি ফল এর বৈশিষ্ট্য  ও উপকারিতা | Features & Benefits of Bread Fruit

রুটি ফল দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মতো হলেও এটি আকারে ছোট ও খোসা মসৃণ। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এটিই একমাত্র ফল যা ভাজা বা সেঁকে রুটির মতো করে খাওয়া যায়!পাকলে ভেতরের অংশ আটার মতো নরম ও মজাদার স্বাদযুক্ত হয়। এটি শুধু ফলই নয়, একটি পুষ্টিকর সবজি ও খাবার হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়।

  • 🍽️ ‘রুটি’ ও ‘ভাত’ দুই-ই এই ফলে:  রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জটিল শর্করা (কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট) ও স্টার্চ, যা শরীরের জন্য দারুণ শক্তি জোগায়। এর জন্যই একে ‘ব্রেডফ্রুট’ বা ‘রুটি ফল’ বলা হয়।
  • 🌾 প্রাকৃতিক গ্লুটেন-মুক্ত খাবার (Gluten-Free): এটি গ্লুটেন-মুক্ত, তাই যাদের গ্লুটেনে অ্যালার্জি আছে, তারাও নিরাপদে এটি খেতে পারেন।
  • 💪 হজমশক্তি ও কোষ্ঠকাঠিন্যে দারুণ কার্যকর: উচ্চ মাত্রার আঁশ (ফাইবার) হজমশক্তি উন্নত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  • 🩺 ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: রুটি ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কম ক্যালোরি ও ফ্যাট থাকায় ওজন কমাতেও এটি সহায়ক।
  • 🛡️ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও চোখের যত্নে: রুটি ফলে প্রচুর ভিটামিন সি ও প্রো-ভিটামিন এ ক্যারোটিনয়েড রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
  • 🧬 অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান: এতে রয়েছে পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, নিয়াসিন ও থায়ামিন
  • ✨ ত্বকের যত্নে: ফলের নির্যাস ত্বকের বিভিন্ন রোগে উপকারী।

রুটি ফল গাছের চাষ পদ্ধতি ও পরিচর্যা | How to Plant and Care for Bread Fruit Tree

১. বাংলাদেশের আবহাওয়ায় রুটি ফল চাষের সম্ভাবনা | Cultivation Potential in Bangladesh

বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু রুটি ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। দিনাজপুরের কৃষকরা সফলভাবে এর চাষ শুরু করেছেন। গাছটি দ্রুত বর্ধনশীল এবং ধান-গমের চেয়ে অনেক কম সার ও পরিশ্রমে বেশি উৎপাদনশীল। বর্তমানে দেশের ছাদ ও বাড়ির আঙিনায় এর চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবেও লাভজনক হতে পারে।

২. উপযুক্ত সময় ও স্থান | Climate and Location

গাছ লাগানোর আদর্শ সময় বর্ষাকাল, বিশেষ করে জুন থেকে আগস্ট মাস। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৮ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোক প্রয়োজন। উঁচু ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত জমি বেছে নিন।

৩. মাটি ও রোপণ পদ্ধতি | Soil and Planting Method

মাটি (Soil): উর্বর ও পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা সম্পন্ন দো-আঁশ মাটি রুটি ফলের জন্য উত্তম। জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ মাটি ভালো ফলন দেয়।

গর্ত ও সার (Pit & Fertilizer): ২.৫x২.৫x২.৫ ফুট গর্ত করে তাতে ১০-১৫ কেজি পচা গোবর, টিএসপি ও এমওপি মাটির সাথে মিশিয়ে নিন।

বংশবিস্তার (Propagation): মনে রাখবেন, রুটি ফল বীজে জন্মায় না। এটি শুধুমাত্র শিকড়ের চারা, কাটিং বা কলমের মাধ্যমেই রোপণ করা হয়। তাই উন্নত মানের নার্সারির গুটি কলম করা চারা কিনুন।

দূরত্ব (Spacing): জমিতে লাগালে প্রতিটি গাছের মাঝে ১০-১৫ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। টবের জন্য কমপক্ষে ২০-২২ ইঞ্চি ব্যাসের টব ব্যবহার করুন।

৪. পরিচর্যা, সেচ ও ছাঁটাই | Care, Watering and Pruning

পানি সেচ (Watering): শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিত পানি দিন। বর্ষাকালে পানি জমে যাওয়া থেকে সাবধান থাকুন]।

সার প্রয়োগ (Fertilizer): বছরে ২ বার জৈব সার প্রয়োগ করুন। ফুল আসার সময় পটাশ ও ফসফরাসযুক্ত সার দিলে ফলন ভালো হয়।

ছাঁটাই (Pruning): নিয়মিত গাছের রোগা ও মরা ডালপালা ছেঁটে দিন। গাছের আকার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে মাঝেমধ্যে ছাঁটাই করা যেতে পারে।

রোগবালাই দমন (Pest Control): রুটি ফল গাছ সাধারণত রোগবালাই প্রতিরোধী। প্রয়োজনে জৈব বালাইনাশক বা নিম তেল স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

৫. টবে রুটি ফল চাষ (ছাদ বাগান) | Rooftop Gardening

টবের আকার (Pot Size): কমপক্ষে ২০-২২ ইঞ্চি ব্যাসের টব ব্যবহার করুন। টবের নিচে ড্রেনেজের জন্য ছিদ্র থাকা জরুরি।

মাটির মিশ্রণ (Soil Mix): ২ অংশ দো-আঁশ মাটি, ১ অংশ কোকোপিট ও ১ অংশ জৈব কম্পোস্ট মিশিয়ে ব্যবহার করুন। টবে নিয়মিত ছাঁটাই করে গাছের আকার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৬. ফল সংগ্রহ ও ফলন | Fruit Harvesting and Yield

গাছ লাগানোর প্রায় ২-৩ বছরের মধ্যেই ফল দেওয়া শুরু করে। বাংলাদেশের জলবায়ুতে ফুল আসে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এবং ফল সংগ্রহ করা যায় আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: রুটি ফল আসলে কেমন স্বাদের? রুটি বা আটার মতো?

উত্তর: রুটি ফলে সরাসরি রুটির স্বাদ নেই, তবে এটি পাকলে ভেতরের অংশ আটার মতো নরম ও মজাদার হয়। ভাজা বা সেঁকে রুটির মতো করে খাওয়া যায় বলেই এর নাম ‘রুটি ফল’। আপনি এটি তরকারি, পায়েস, পিঠা এমনকি আচার বানিয়েও খেতে পারেন।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের আবহাওয়ায় কি রুটি ফল গাছ হয়?

উত্তর: হ্যাঁ, হয়। বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া রুটি ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। দিনাজপুরের কৃষকরা ইতিমধ্যেই এর সফল চাষ শুরু করেছেন। ছাদে টবেও খুব সহজেই এই গাছ ফলানো সম্ভব।

প্রশ্ন: টবে রুটি ফল গাছ লাগানো যাবে কি?

উত্তর: অবশ্যই, ২০-২২ ইঞ্চি বড় সাইজের টব ও সুনিষ্কাশিত মাটি ব্যবহার করলে ছাদ বা বারান্দার টবেও খুব সহজেই রুটি ফল গাছ ফলানো সম্ভব। নিয়মিত ছাঁটাই করে গাছের আকার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

প্রশ্ন: রুটি ফল গাছের বীজ কি পাওয়া যায়?

উত্তর: না, সাধারণভাবে চাষকৃত রুটি ফল গাছে বীজ হয় না। এটি বংশবিস্তার করে কাটিং বা কলমের মাধ্যমে। তাই আপনাকে নার্সারি থেকে গুটি কলম করা চারা কিনতে হবে。

প্রশ্ন: কেন অনলাইনে Plant in BD থেকে গাছ কিনবেন?

উত্তর: আমরা উন্নত মানের, রোগমুক্ত ও গুটি কলম করা চারা সরবরাহ করি এবং সারা বাংলাদেশে নিরাপদ হোম ডেলিভারি নিশ্চিত করি। পথিমধ্যে গাছ নষ্ট হয়ে গেলে বিনামূল্যে রিপ্লেসমেন্ট দেওয়া হয়।

🔥 এখনই অর্ডার করুন এবং আপনার বাগানে আনার জন্য এনে দিন পুষ্টিকর ও দারুণ উপকারী ‘রুটি ফল’। স্টক সীমিত!

Reviews

0 reviews
0
0
0
0
0

There are no reviews yet.

Be the first to review “Bread Fruit Tree Plant রুটি ফল গাছ”

Your email address will not be published. Required fields are marked *