Bilati Gabবিলাতি গাব

380.00৳ 

Details:

Description

বিলাতি গাব গাছ | Bilati Gab  Plant –

বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Diospyros discolor (syn. Diospyros blancoi) | পরিবার (Family): Ebenaceae | চারার উচ্চতা (Plant Height): ৮০-১০০ সেমি | পরিপক্ক গাছের উচ্চতা (Mature Height): ১০-১৫ ফুট | উৎপত্তি (Origin): ফিলিপাইন | অন্যান্য নাম (Other Names): ভেলভেট আপেল, মাবোলো, ফরেন গাব (Velvet Apple, Mabolo, Butterfruit, Camagong)

বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি মিষ্টি, পুষ্টিকর ও উচ্চ ফলনশীল দেশি জাতের ফল।

বিলাতি গাব ফলের বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা | Features & Benefits of Bilati Gab

বিলাতি গাব দেখতে অনেকটা আপেলের মতো। এটির খোসা মখমলের ন্যায় নরম ও লোমশ, যা পাকলে গাঢ় লাল বা বাদামি বর্ণ ধারণ করে। ভিতরের শাঁস সাদা, ক্রিমি ও সুগন্ধি। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি বাংলাদেশের বাড়ির আঙিনা ও ছাদবাগানের জন্য একটি চমৎকার পছন্দ।

  • 🍎 অনন্য স্বাদ ও গঠন: আপেলের আকারের এই ফলগুলো গোলাকার হয়। পাকলে এর রঙ গাঢ় লাল হয়, খোসার ওপরটা মখমলের মতো এবং ভেতরের শাঁস নরম, ক্রিমের মতো সাদা বা গোলাপি বর্ণের হয়।
  • 🧬 পুষ্টিগুণে ভরপুর: প্রতি ১০০ গ্রাম বিলাতি গাবে প্রায় ৫০৪ ক্যালরি, প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সি ও এ রয়েছে
  • 🛡️ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: এতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সর্দি-জ্বর ও কফ-কাশি থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
  • 🩸 রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: গাবে থাকা পটাসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী।
  • 💪 শারীরিক দুর্বলতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: উচ্চমাত্রার খাদ্যশক্তি (এনার্জি) থাকায় এটি দুর্বলতা দূর করে এবং গাবে থাকা আঁশ হজমশক্তি উন্নত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  • 🏆 বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) কর্তৃক উদ্ভাবিত বিলাতি গাব-১ একটি উচ্চ ফলনশীল জাত, যার ফলন ৩০-৩৫ টন/হেক্টর। দেশের বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা কৃষক ও উদ্যানপালকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক করে তুলেছে।

কীভাবে বিলাতি গাব গাছ লাগাবেন ও যত্ন নেবেন | How to Plant and Care for Bilati Gab Tree

১. বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বিলাতি গাব চাষের সম্ভাবনা | Cultivation Potential in Bangladesh

বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই বিলাতি গাবের চাষ সম্ভব। মাগুরা, কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় এর চাষ সফল হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে বিলাতি গাবের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা চাষিদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

২. উপযুক্ত সময় ও স্থান | Climate and Location

বিলাতি গাব গাছ উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু পছন্দ করে। গাছ লাগানোর আদর্শ সময় বর্ষাকাল (মে থেকে আগস্ট)। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৮ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোক প্রয়োজন। গাছটি হালকা ছায়াতেও জন্মাতে পারে, তবে পূর্ণ রোদে ফলন বেশি হয়। প্রায় সব ধরনের মাটিতেই বিলাতি গাবের চাষ করা যায়, তবে উর্বর, সুনিষ্কাশিত দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো।

৩. টবে বিলাতি গাব চাষের পদ্ধতি | Rooftop Gardening Method

টব নির্বাচন: ছাদবাগানের জন্য কমপক্ষে ২০-২২ ইঞ্চি ব্যাসের টব নির্বাচন করুন। টবের নিচে ৩-৫টি ছিদ্র করে দিন যাতে পানি জমতে না পারে।

মাটি তৈরি ও রোপণ: ২ অংশ দো-আঁশ মাটি, ১ অংশ পচা গোবর, ৪০-৫০ গ্রাম টিএসপি ও ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার মিশিয়ে ১০-১২ দিন রেখে দিন। তারপর মাটি কিছুটা আলগা করে সুস্থ সবল কলম করা চারা রোপণ করুন। রোপণের পর গাছের গোড়ায় হালকা চাপ দিয়ে মাটি বসিয়ে দিন।

৪. পরিচর্যা, সেচ ও ছাঁটাই | Care, Watering and Pruning

পানি সেচ: শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিত পানি দিন, তবে টবের নিচে পানি জমে যাওয়া থেকে সাবধান থাকুন। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখুন।

ছাঁটাই: বছরে ২ বার (ফল সংগ্রহ শেষে) গাছের রোগা, মরা ও ঘন ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে। এতে গাছে বাতাস ও আলো চলাচল ভালো হয় এবং ফলন বৃদ্ধি পায়।

সার প্রয়োগ: বছরে ২-৩ বার জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করুন। ফলন ভালো পাওয়ার জন্য গাছের বয়স ও আকার অনুযায়ী সুষম NPK সার ব্যবহার করুন।

৫. ফল সংগ্রহ ও ফলন | Fruit Harvesting and Yield

বিলাতি গাব গাছ লাগানোর সাধারণত ৪-৫ বছরের মধ্যে ফল দিতে শুরু করে। তবে উন্নত মানের কলম করা চারা ১-২ বছরের মধ্যেও ফল দেওয়া শুরু করতে পারে। ফুল আসে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে এবং ফল সংগ্রহ করা যায় জুলাই-আগস্ট মাসে। বিলাতি গাব একটি অত্যন্ত ফলনশীল ফল। একটি পরিপক্ব গাছ থেকে বারি বিলাতি গাব-১ জাতের ৩৭২টি ফল পাওয়া যায়, যার মোট ওজন প্রায় ১২১ কেজি। পাকা ফল দেখতে টকটকে লাল রঙের হয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: বিলাতি গাব ও দেশি গাবের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: বিলাতি গাব দেখতে অনেকটা আপেলের মতো, গোলাকার ও লালচে বর্ণের। এটির খোসা মখমলের মতো নরম ও লোমশ, আর শাঁস ক্রিমি সাদা ও মিষ্টি। দেশি গাব সাধারণত ছোট আকারের ও সবুজাভ-হলুদ বর্ণের, এর শাঁসও ভিন্ন ধরনের। বিলাতি গাবের বীজ ছোট ও শাঁসের পরিমাণ বেশি হয়।

প্রশ্ন: বিলাতি গাব গাছ লাগানোর কত বছর পর ফল পাওয়া যায়?

উত্তর: আমাদের উন্নত মানের কলম করা চারা লাগানোর ১-২ বছরের মধ্যেই ফল দেওয়া শুরু করে। বীজ থেকে চারা করলে ফল পেতে ৪-৫ বছর সময় লাগতে পারে। বারি বিলাতি গাব-১ জাতটি একটি নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল জাত।

প্রশ্ন: টবে বিলাতি গাব গাছ লাগানো যাবে কি?

উত্তর: অবশ্যই, ২০-২২ ইঞ্চি বড় সাইজের টব ব্যবহার করলে ছাদ বা বারান্দার টবেও খুব সহজেই বিলাতি গাব গাছ ফলানো সম্ভব। বর্তমানে দেশে টবে বিলাতি গাব চাষ খুবই জনপ্রিয়। নিয়মিত পরিচর্যা ও ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে গাছের আকার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

প্রশ্ন: বিলাতি গাব ফলের বাজারে দাম কত?

উত্তর: বিলাতি গাব বাজারের একটি চাহিদাসম্পন্ন ফল। আকার ও মানভেদে এর দাম ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। ঢাকার বাজারে বিলাতি গাবের দাম আরও বেশি হয়।

🔥 এখনই অর্ডার করুন এবং আপনার বাগানে আনার জন্য এনে দিন বাংলাদেশের অত্যন্ত পুষ্টিকর ও চাহিদাসম্পন্ন দেশি ফল বিলাতি গাব। স্টক সীমিত!

Reviews

0 reviews
0
0
0
0
0

There are no reviews yet.

Be the first to review “Bilati Gabবিলাতি গাব”

Your email address will not be published. Required fields are marked *