ঝাও গাছ (থুজা / চাইনিজ সিডার) – Thuja orientalis
বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name): Thuja orientalis (প্রতিশব্দ: Platycladus orientalis) | পরিবার (Family): Cupressaceae | অন্যান্য নাম (Other Names): ঝাও, থুজা, চাইনিজ সিডার, বায়োটা, Oriental Arborvitae, Chinese Cedar, Biota | চারার উচ্চতা (Plant Height): ৬০-৯০ সেমি (২-৩ ফুট) | পরিপক্ক গাছের উচ্চতা (Mature Height): ৩-৫ ফুট (টবে), ১০-১৫ মিটার (প্রকৃতিতে) | উৎপত্তি (Origin): কোরিয়া ও উত্তর-পূর্ব চীন
বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি চিরসবুজ, দ্রুত বর্ধনশীল ও ঘন শোভাময় উদ্ভিদ। ঝাও গাছ তার সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক বেড়া (হেজ) তৈরির ক্ষমতার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।
ঝাও গাছের বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা | Features & Benefits of Thuja Plant
ঝাও গাছ (Thuja orientalis) একটি চিরহরিৎ বৃক্ষ, যা তার ঘন, সুগন্ধি ও খাড়া শাখার জন্য পরিচিত। এর পাতা চ্যাপ্টা, আঁশের মতো এবং গাঢ় সবুজ রঙের। এটি অত্যন্ত ধীরে বর্ধনশীল, কিন্তু অল্প জায়গায়ও দারুণ দেখায় এবং বাগানের সীমানা, গোপনীয়তা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
🌿 চিরসবুজ ঘন সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক বেড়া
ঝাও গাছের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর সারা বছর সবুজ, ঘন ও সুগন্ধি পাতা। সারি সারি লাগিয়ে এটি একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক বেড়া (হেজ) তৈরি করে, যা বাগানের গোপনীয়তা ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
🌳 দ্রুত বর্ধনশীল ও কম রক্ষণাবেক্ষণ
ঝাও গাছ তুলনামূলকভাবে দ্রুত বর্ধনশীল এবং অল্প যত্নে বেড়ে ওঠে। এটি বিভিন্ন ধরনের মাটিতে মানিয়ে নিতে পারে এবং একবার লাগালে দীর্ঘদিন সৌন্দর্য ধরে রাখে।
🩺 ঔষধি ও পরিবেশগত গুরুত্ব
থুজা গাছের তেল ও নির্যাস প্রাচীনকাল থেকেই সর্দি-কাশি, চর্মরোগ ও বাতের ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি বাতাস বিশুদ্ধ করতে এবং পরিবেশকে সতেজ রাখতেও সহায়তা করে।
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ঝাও গাছ চাষের সম্ভাবনা | Cultivation Potential in Bangladesh
বাংলাদেশের আবহাওয়া ঝাও গাছ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এটি অন্দর ও বহিরঙ্গন উভয় স্থানেই সঠিক পরিচর্যায় দারুণ জন্মে। বর্তমানে দেশের নার্সারি ও অনলাইন শপগুলোতে ঝাও গাছের চারা সহজলভ্য এবং এর চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে।
কীভাবে ঝাও গাছ লাগাবেন ও যত্ন নেবেন | How to Plant and Care for Thuja Plant
১. উপযুক্ত সময় ও স্থান
চারা লাগানোর আদর্শ সময় বর্ষাকাল (মে-আগস্ট) ও শীতের শেষে। ঝাও গাছ পূর্ণ রোদ ও আংশিক ছায়া উভয় জায়গাতেই ভালো হয়। হেজ তৈরির জন্য পর্যাপ্ত রোদযুক্ত স্থান নির্বাচন করুন।
২. মাটি ও রোপণ পদ্ধতি
মাটি (Soil): সুনিষ্কাশিত ও উর্বর দো-আঁশ মাটি ঝাও গাছের জন্য উত্তম।
গর্ত ও সার (Pit & Fertilizer): ২x২x২ ফুট গর্ত করে তাতে ১০-১৫ কেজি পচা গোবর, ৫০০ গ্রাম ছাই, ১০০ গ্রাম টিএসপি ও ৫০ গ্রাম এমওপি মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
দূরত্ব (Spacing): হেজ তৈরির জন্য ২-৩ ফুট দূরত্বে এবং বড় গাছের জন্য ৬-৮ ফুট দূরত্বে লাগান। টবের জন্য ১৮-২০ ইঞ্চি ব্যাসের টব ব্যবহার করুন।
৩. পরিচর্যা, সেচ ও ছাঁটাই
পানি সেচ (Watering): শুষ্ক মৌসুমে সপ্তাহে ২-৩ বার সেচ দিন। মাটি আর্দ্র রাখুন, কিন্তু পানি জমতে দেবেন না।
ছাঁটাই (Pruning): হেজের আকৃতি বজায় রাখতে এবং গাছকে ঘন করতে নিয়মিত ছাঁটাই করুন। শুকনো ও রোগাক্রান্ত ডালপালা কেটে ফেলুন।
সার প্রয়োগ (Fertilizer): বছরে ২ বার (বসন্ত ও গ্রীষ্ম) জৈব সার ও সুষম NPK সার প্রয়োগ করুন।
রোগবালাই দমন (Pest Control): ঝাও গাছ সাধারণত রোগ প্রতিরোধী। প্রয়োজনে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. টবে ঝাও গাছ চাষ (ছাদ ও বারান্দা বাগান)
টবের আকার (Pot Size): ১৮-২০ ইঞ্চি ব্যাসের বড় টব বা ড্রাম ব্যবহার করুন। টবের নিচে ড্রেনেজের জন্য ছিদ্র থাকা জরুরি।
মাটির মিশ্রণ (Soil Mix): ২ অংশ দো-আঁশ মাটি, ১ অংশ কোকোপিট ও ১ অংশ জৈব কম্পোস্ট মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: ঝাও গাছ কত দ্রুত বাড়ে?
প্রশ্ন: ঝাও গাছের আর কী কী নাম আছে?
প্রশ্ন: টবে ঝাও গাছ লাগানো যাবে কি?
প্রশ্ন: ঝাও গাছের পাতার রং কী কী হয়?
প্রশ্ন: কেন অনলাইনে Plant in BD থেকে গাছ কিনবেন?
🔥 এখনই অর্ডার করুন এবং আপনার বাগানে আনার জন্য এনে দিন চিরসবুজ সৌন্দর্যের ঝাও গাছ।















Reviews
Clear filtersThere are no reviews yet.